দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া উপকূলে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাটসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেন।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় উপকূলে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় জেলে মো. ইসমাইল বলেন, নৌকাটিতে ৩১ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো নারী বা শিশু নেই।
তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা মিয়ানমারে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এর আগে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, তারা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আবার বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।
তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি বিজিবি।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। কী কারণে তারা বাংলাদেশে এসেছেন, তা যাচাই-বাছাই করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মুখে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।
এমএস/